
লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিটি আসনেই জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থীরা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভোট গণনা শেষে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী তিনটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন।
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান ৯২ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৫ হাজার ৪৮৯ ভোট পান। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ আসনে ভোটের ব্যবধান তুলনামূলক কম হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীই এগিয়ে থাকেন।
লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকেন। ভোটের ফল ঘোষণার সময় কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে প্রশাসন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু ১ লাখ ৪০ হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৫ হাজার ৩৮৭ ভোট পান। এই আসনে ভোটের ব্যবধান তুলনামূলক বেশি ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়, সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত ফলাফল বেসরকারি হিসেবেই গণ্য হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। যদিও কোথাও কোথাও ভোটকেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনার অভিযোগ ওঠে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তবে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের শপথ ও সংসদে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।