
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের বরাতে এমন তথ্য সামনে এসেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ড. শেখ আব্দুর রশীদকে (পরিচিতি নম্বর-১৫৩০) চুক্তিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব দফতর ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীর সই করা এ আদেশ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের বিদায়ের প্রাক্কালে এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের কাঠামোতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবুও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রশাসনে নতুন নেতৃত্ব বা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ড. শেখ আব্দুর রশীদকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সে সময় প্রশাসনে স্থিতিশীলতা ও সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে তার নিয়োগ দেওয়া হয় বলে জানা যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, জনস্বার্থ ও চলমান প্রশাসনিক প্রয়োজনের আলোকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। যদিও সমালোচকরা বলছেন, সরকারের শেষ পর্যায়ে এমন পরিবর্তন ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে পরবর্তী দায়িত্ব কার ওপর ন্যস্ত হবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।