
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমান দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় চাননি কিংবা প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের অব্যাহতি দেওয়া উচিত।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনে দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, কিছু নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতায় গিয়েছিলেন এবং দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।
মজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের ঐক্য বিনষ্ট করে কেউ কেউ আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে দ্রুত সাংগঠনিক তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বিশেষভাবে গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর নাম উল্লেখ করে বলেন, তাকে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে একাধিকবার আহ্বান জানানো হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে অভিযোগ। বরং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীর ক্ষতির চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিজয়ী এই প্রার্থী আরও বলেন, অতীতে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ ও সিনিয়র নেতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। ঐক্যের স্বার্থে সেসব বিষয় প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু এখন দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মজিবুর রহমান বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি প্রতিপক্ষের পক্ষে কাজ করে থাকেন, তবে তা দলের আদর্শের পরিপন্থি। তিনি দাবি করেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি তিনি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে নেতাকর্মীদের একটি অংশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।