
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস পরবর্তীতে সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে।
এর আগে শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে তারা ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি জটিল চিত্রও তুলে ধরে।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে বিপুলসংখ্যক ভোট কাঠামোগত কারণে যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তত ৫৩টি আসনে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি জোট জয়লাভ করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান লিখেছিলেন, কয়েকটি আসনের ফলাফল এখনও নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং দল আইনের আওতায় থেকে বৈধ উপায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং নির্দিষ্ট আসনে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রচেষ্টা—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
পোস্টে আরও বলা হয়, যেসব আসনে ভোট গণনায় বিলম্ব, অনিয়ম বা বিরোধের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দলীয় প্রতিনিধিরা পুনর্গণনা ও আইনি প্রতিকারের উদ্যোগ নিচ্ছেন। প্রতিটি ভোট যথাযথভাবে গণনা এবং সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার আহ্বানও জানানো হয়।
এদিকে নতুন সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটারদের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংবিধানের আলোকে দেশ পরিচালনা করা হবে। তার দাবি অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা একটি জাতীয় ম্যান্ডেট হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, সংস্কার কেবল স্লোগান নয়, বরং একটি অঙ্গীকার।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, যেখানেই সহিংসতা, ভয়ভীতি বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠবে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়া প্রয়োজন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির প্রতিও তিনি আহ্বান জানান, সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আস্থা তৈরি করতে হবে। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।
তবে পরবর্তীতে ফলাফল স্বীকৃতির ওই পোস্টটি তার ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা দেখা গেছে। কেন পোস্টটি সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দল নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করছে। পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।