
২০২৬ নির্বাচন ‘ম্যানেজ ভোট’ অভিযোগ রাশেদ প্রধানের
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ‘ম্যানেজ ভোট’ বলে অভিযোগ করেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর উত্তর গেটে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সমাবেশে বক্তব্যকালে রাশেদ প্রধান বলেন, “২০১৪ সালে হয়েছিল বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালে হয়েছিল রাতের ভোট। ২০২৪ সালে আমরা দেখেছি ডামি ভোট। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর অনেকে ভেবেছিল ২০২৬ সালে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে ম্যানেজ ভোট।” তবে তার এই বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশ থেকে প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে প্রভাবিত করে নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ নতুন নয়; বরং এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি পরিচিত ধারা।
সমাবেশে উপস্থিত ১১ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাশেদ প্রধান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পর বিরোধী মতের লোকজনের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ধর্মীয় উপমা টেনে বলেন, “মজলুম যখন জালিম হয়ে যায় তখন আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে।” তিনি দাবি করেন, আন্দোলন থামবে না এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। কেউ ফলাফল মেনে নিয়েছে, আবার কেউ অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। নির্বাচন কমিশন এর আগে দাবি করেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করে বলছে, ভোটের পরিবেশ পুরোপুরি সমান ছিল না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করেন, অভিযোগ-প্রতিআপত্তির বদলে প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।
সবমিলিয়ে, ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও কর্মসূচি পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।