
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দায়িত্ব পালনের ১৮ মাস পর এবার তার বিদায়ের সময় এসেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে প্রচারিত ভাষণে তিনি জানান, “আমি আজ আমার কাজ থেকে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।”
ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ও প্রধান কাজ ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল করা। তার দাবি, সে সময় দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ছিল অচলাবস্থার মধ্যে। “যারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, অভ্যুত্থানের পর তাদের অনেকেই সরে যান বা আত্মগোপনে চলে যান,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন থেকে মধ্যপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা দায়িত্ব ছেড়ে দেন, ফলে নতুন করে প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজন ছিল সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তার কথায়, “দেশের সর্বত্র এক ধরনের ঈদের আমেজ ছিল, যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
তবে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন অনিয়ম বা সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে বলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তিনি নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকে অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, “যারা জয়ী হয়েছেন তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। আর যারা জয়ী হতে পারেননি, তারাও প্রায় অর্ধেক ভোট পেয়েছেন। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই রাজনীতির মূল শক্তি। তার মতে, যারা পরাজিত হয়েছেন তারাও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভাষণে তিনি জানান, নতুন সরকার শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে গত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণ দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিদায়ের ঘোষণা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রশাসনিক পুনর্গঠন, নির্বাচন আয়োজন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ছিল। তবে প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে সামগ্রিক অগ্রগতির কথাই তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন—নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের নীতিনির্ধারণে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং গত ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড কতটা প্রভাব ফেলবে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে।