
গণঅধিকার পরিষদের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা জুড়ে নানা আয়োজনে দিনটি পালন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনের আদর্শ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা সমবেত হন। পরে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। উপস্থিত বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করে আসছে বলে দাবি করা হয়।
বক্তারা অভিযোগের ধাঁচে বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ অবস্থায় গণঅধিকার পরিষদ গণমানুষের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে বলে নেতারা দাবি করেন। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা সংগঠনের অগ্রযাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন নির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়।
উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার আট বছরে সংগঠনটি বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি পালন করেছে বলে দাবি করা হয়। বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এসব দাবির বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষে কেক কাটা ও সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে সংগঠন আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করবে এবং গণমানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, গণঅধিকার পরিষদ দেশের একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে আসছে বলে জানা যায়। অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতায় এসব কর্মসূচির প্রভাব কতটা পড়বে, তা সময়ই বলে দেবে।