
পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানা গেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দলীয় সূত্রের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর-১৩ এলাকায় অবস্থিত গ্র্যান্ড প্রিন্স রেস্টুরেন্টে এতিমদের সম্মানে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজনে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, রমজান মাসের প্রথম দিনটি সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে কাটানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইফতার করা একটি মানবিক উদ্যোগ। যদিও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, রমজানকে ঘিরে সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের চর্চা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয় বলে ধারণা করা হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এমন আয়োজনের পেছনে রাজনৈতিক বার্তাও থাকতে পারে—এমন অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
উল্লেখ্য, রমজান মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইফতার মাহফিল আয়োজন করে থাকে। এতিম ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রবণতাও নতুন নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি জোরদার হয় এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়ে।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে রমজানকে কেন্দ্র করে নানা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে, পাশাপাশি ধর্মীয় কর্মসূচিও জোরদার হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রথম রোজায় রাজনৈতিক নেতার এতিমদের সঙ্গে ইফতারের খবরে আলোচনা তৈরি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।
তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে পুরো আয়োজনটি কীভাবে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।
রমজানের প্রথম দিনে এই ইফতার আয়োজন বাস্তবায়িত হলে তা রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।