
দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মহাসড়কে ‘টোকেন মানি’ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড পেজে মন্তব্য করেছেন জুলকারনাইন সায়ের।
Facebook-এ দেওয়া এক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কের একাধিক পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রাক থামিয়ে শ্রমিক সংগঠনের নামে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, একটি ট্রাক গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে ৫ থেকে ৭টি স্থানে থামতে বাধ্য হয় এবং প্রতিটি পয়েন্টে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কিংবা তারও বেশি অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অতিরিক্ত ব্যয় পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের চূড়ান্ত দামের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে এ ধরনের অনিয়ম ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
জুলকারনাইন সায়ের তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, যদি সংগৃহীত অর্থ সত্যিই শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় হয়ে থাকে, তবে তার স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হচ্ছে কি না। অভিযোগ রয়েছে, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন বা সন্তানের শিক্ষায় ব্যয় হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার স্পষ্ট প্রমাণ সাধারণ মানুষের সামনে আসে না।
সম্প্রতি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রবিউল আলম এক বক্তব্যে বলেন, সড়কে আদায় হওয়া অর্থকে তিনি চাঁদা হিসেবে দেখেন না; বরং এটি মালিক ও শ্রমিক সমিতির কল্যাণমূলক তহবিলের অংশ। এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জুলকারনাইন সায়ের ইঙ্গিত করেন, যদি কোনো চালক বা মালিক বাধ্য হয়ে অর্থ প্রদান করেন, তাহলে সেটিকে স্বেচ্ছা অনুদান বলা কতটা যুক্তিসংগত—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, মহাসড়ক ছাড়াও আড়ত পর্যায়েও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে বাজার ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি জানান।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লিখেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া চললেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।