
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান। তার এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে মন্তব্য শোনা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। শপথ নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আগ্রহ থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তার ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আগ্রহী হয়েছেন।
ইশরাক হোসেন ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা-এর বড় ছেলে। পারিবারিকভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে রাজধানীর রাজনীতিতে তার পরিচিতি আগে থেকেই রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০২০-এও তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বলে জানা যায়।
তবে এবার তিনি কোন রাজনৈতিক কৌশলে নির্বাচন করবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তফসিল ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। কেউ কেউ বলছেন, এটি দলীয় কৌশলের অংশ হতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন করে অবস্থান শক্ত করার প্রয়াস হিসেবেও এ সিদ্ধান্ত দেখা যেতে পারে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ঘোষণার পর সমর্থক ও সমালোচকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন। কেউ কেউ এটিকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করছেন, আবার অনেকে সময়োপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।