
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু-কে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মজীবন ও সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি চুপ্পু তার কর্মজীবনের শুরুতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেখানে বলা হয়, অর্থের বিনিময়ে রায় বিক্রি করা তার কর্মকাণ্ডের অংশ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তী সময়ে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন-এ দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ ফয়সালা করতেন অর্থের বিনিময়ে, এমন দাবিও পোস্টে করা হয়েছে।
পিনাকী ভট্টাচার্য আরও লিখেছেন, রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এস আলমের প্রভাবাধীন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এ ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছিলেন এবং সেই সময় দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট ও অনিয়মে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পোস্টে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের আর্থিক ও নৈতিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর কাছে বিএনপি নেতা তারেক রহমান সরকার শপথ গ্রহণ করেছে, যা জুলাই বিপ্লবের শহিদ ও আহতদের প্রতি অশ্রদ্ধার সমতুল্য বলে তিনি মনে করেন। পিনাকী ভট্টাচার্য অভিযোগ তুলেছেন যে, জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে বিতর্কিত একজন ব্যক্তিকে উদ্বোধনী বক্তৃতা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে রাষ্ট্রের মর্যাদা, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ পিনাকীর অভিযোগের সঙ্গে একমত হয়ে তদন্তের দাবি করেছেন, আবার অনেকে তথ্য যাচাই ছাড়া গুরুতর অভিযোগ প্রচারের প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ দ্রুত জনমত প্রভাবিত করতে পারে। তাই রাষ্ট্রপতি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নাগরিকদেরও তথ্য যাচাই করে মতামত দেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অনলাইনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।