
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তবে তার বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ডা. শফিকুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি পূর্বে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে যা জানিয়েছিলেন এবং পরে জাতির উদ্দেশে যা বলেছিলেন—সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তার সঙ্গে সেই বক্তব্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন রাষ্ট্রপতি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, বর্তমানে দেওয়া মন্তব্যে তার স্বীকৃতি নেই। বরং এখন যে ব্যাখ্যা সামনে আসছে, তা আগের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “কোটি-কোটি মানুষ সেদিন যা শুনেছে এবং রাষ্ট্রপতি যা বলেছিলেন, তার সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যের পার্থক্য থাকলে সেটির ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।” তিনি অভিযোগের সুরে যোগ করেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তির বক্তব্যে এ ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
তবে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। আবার অনেকে বলছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে স্পষ্টতা থাকা জরুরি, যাতে জনমনে সন্দেহ বা বিভ্রান্তির অবকাশ না থাকে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার ও তা নিয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি বা সংশ্লিষ্ট মহল থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।