
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাফরুল পশ্চিম থানা উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ডা. শফিকুর রহমানের। তিনি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে যাত্রাপথে হঠাৎ বমি করেন এবং পরে দুর্বলতা অনুভব করেন বলে জানানো হয়। এ পরিস্থিতিতে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।
দলের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা গণমাধ্যমকে বলেন, আমিরের শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি হওয়ায় চিকিৎসা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সবার কাছে দোয়া কামনা করা হচ্ছে যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিনও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা আমিরের সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন—এ কামনাই সবার।
দলীয় সূত্রের দাবি, অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো জটিলতার খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। ফলে হঠাৎ অসুস্থতার খবর দলীয় অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও দলীয় নেতারা এটিকে সাময়িক শারীরিক সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দল রাজধানীসহ দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে। এরই অংশ হিসেবে আয়োজিত ছিল ওই আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল। তবে আমিরের অনুপস্থিতিতে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত আকারে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে দলীয় সমর্থকদের। যদিও তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি।
সবশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তিনি বাসায় বিশ্রামে আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিচ্ছেন। দলীয় নেতারা বলেছেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেই তিনি আবারও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও দলীয় পক্ষ থেকে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।