
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে—সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য সামনে এসেছে, যেখানে দাবি করা হয় যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় বসেই সিটি করপোরেশনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রশাসনিক পদে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
তিনি বলেন, প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে জারি করা প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি বলে তাদের নজরে এসেছে। সাধারণত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে সময়সীমা উল্লেখ বাধ্যতামূলক—এমন মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কিনা। তার দাবি, এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বর্তমান সরকার ভয়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। নানা বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, নাগরিক সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন জরুরি। জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট টাইমলাইন ঘোষণা করার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণ এখন পরিষ্কার দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের শুরুর দিকেই এমন অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়াতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনিক নিয়োগ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সমন্বয়—এসব বিষয় সামনে রেখে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।