
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেছেন, সরকারে থাকলে বিভিন্ন অনিয়ম ও নাগরিক সমস্যার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্তমানে বিরোধী দলে থাকায় সব ক্ষেত্রে শতভাগ কার্যকর ভূমিকা রাখা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পৌর এলাকার নাগরিক সেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
মুফতি আমির হামজা বলেন, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী প্রকাশ্যে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে দৃঢ় অবস্থান নিলে তারা বিপরীত অবস্থান নেয়—এমন অভিযোগও তিনি তোলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তবে বাধা সত্ত্বেও জনস্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় কুষ্টিয়া পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় অনেকেই রাস্তা ও ড্রেনে বর্জ্য ফেলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মত দেন। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক আহমেদ মাহবুবুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তারা নাগরিক সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা শহরের সড়ক, ড্রেন ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানান। তারা বলেন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, নির্ধারিত ডাম্পিং জোন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা জরুরি। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রশাসনিক সমন্বয় ও বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। তবে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণই হতে পারে কার্যকর সমাধান।
সভা শেষে উপস্থিতদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবেন এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে—এমন বক্তব্যও উঠে এসেছে।