
ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত পাইনিয়ার সোয়েটার কারখানাগুলোকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে ‘বিউটিফুল ভালুকা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
উক্ত পোস্টে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কারখানায় নিয়মিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত কাজ করানো হলেও যথাযথ ওভারটাইম ভাতা প্রদান করা হয় না। কেউ কেউ দাবি করেছেন, ছয় ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করিয়ে কাগজে-কলমে দুই ঘণ্টা দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এমনকি সেই অর্থও অনেক সময় বুঝিয়ে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
পোস্টটি প্রকাশের পর এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিক্রিয়া, মন্তব্য ও শেয়ার দেখা যায়। পেজটির দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্যবহারকারী মন্তব্যে অভিযোগগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পোস্টের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ৯৫ শতাংশের পরিসংখ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
বিশেষ করে চলমান রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কিছু মন্তব্যে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিউটি করানো হচ্ছে। ইফতারের সময় পর্যাপ্ত বিরতি দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ব্যবহারকারী মন্তব্যে দাবি করেছেন, ইফতারে রুটি ও কলা সরবরাহ করা হয়। কেউ কেউ বলেছেন, বাড়িতে গিয়ে ইফতার করার জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হয়, যা শ্রমিকদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং চাকরি হারানোর আশঙ্কা দেখানো হয়। কিছু মন্তব্যে কারখানার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও শ্রমিকদের একাংশ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে হলে সরেজমিনে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।