
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় একটি ইফতার মাহফিলে চোরাই গরু জবাইয়ের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বিএনপি নেতার নাম সামনে এলেও স্থানীয়দের দাবি, তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন গ্রামে প্রবাসী এম আহমদ মধু মিয়ার বাড়িতে একটি বড় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ গরুর প্রকৃত মালিকও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাহফিলটি ছিল সম্পূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় উদ্যোগের অংশ।
তবে ইফতারের পরদিন এলাকায় একটি গরু চুরির ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, মাহফিলে জবাই করা গরুটি স্থানীয় এক বাসিন্দার, যা আগের দিন মাঠ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে খোঁজখবর শুরু হলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে প্রবাসীর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে গরু নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রেজওয়ান আহমদ বলেন, ইফতারের জন্য আগেই গরু কেনার কথা ছিল। তবে বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারিত গরু না কিনে অন্যত্র অর্থ ব্যয় করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ইফতারের আগের দিন মাঠ থেকে একটি গরু এনে জবাই করা হয়। তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় প্রবাসীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে আমরা কোনো প্রমাণ পাইনি। অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি দ্রুত যুক্তরাজ্যে ফিরে যান।”
গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম জানান, তার গরুটি মাঠ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি জানার পর প্রবাসী এম আহমদ মধু মিয়া তাকে ডেকে গরুর ন্যায্য মূল্য হিসেবে ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কেয়ারটেকার ঘটনার দায় স্বীকার করায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। মালিকের দাবি, প্রবাসীর বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই।
উল্লেখ্য, এম আহমদ মধু মিয়া যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এবং সেখানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি সম্প্রতি দেশে এসে সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। নির্বাচন শেষে নিজ এলাকায় একটি ইফতার মাহফিল আয়োজনের উদ্যোগ নেন।
এদিকে ওসমানীনগর থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনা শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও স্থানীয়দের বড় একটি অংশের দাবি, অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।