নাটোরের সিংড়া উপজেলায় মাটির নিচে পানির ট্যাংকি স্থাপন করে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত রাখার অভিযোগে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় এক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের দিকে সিংড়া পৌরসভার একটি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় মাটির নিচে জ্বালানি তেল লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সিংড়া পৌরসভার নিংগইন ভাটোপাড়া মহল্লায় একটি মসজিদের দক্ষিণ পাশে বাঁশঝাড়ের ভেতরে মাটির নিচে পানির ট্যাংকি বসিয়ে সেখানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে একটি বড় পানির ট্যাংকি উদ্ধার করা হয়। ট্যাংকির ভেতর থেকে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল তেল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী মো. রুবেল (৩৪)-এর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ডিজেল মজুত রাখার অভিযোগ আনা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ডিজেল তেল আগামী দিনের মধ্যে বৈধভাবে তার দোকানে স্থানান্তর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার আশঙ্কা থেকে প্রশাসন এ ধরনের অভিযানে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বাঁশঝাড়ের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে কিছু কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় আলোচনা ছিল। তবে মাটির নিচে এভাবে তেল মজুত রাখা হয়েছে—এমন বিষয়টি অভিযানের আগে অনেকেই জানতেন না বলে দাবি করেছেন তারা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম বা অবৈধ মজুতের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।