
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় ৩২ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব থেকে এমন তথ্য জানা গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে মোট ৩২ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৮ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে হিসাব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই ব্যয় বিবরণীতে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ব্যয় বিবরণী অনুযায়ী দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনার জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এই খাতে মোট ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫০ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জনসভা আয়োজনের জন্য প্রায় ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে হিসাবপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এই খাতে প্রায় ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬৪২ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনী এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পারিশ্রমিক বাবদ প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৯০ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে হিসাবপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া আবাসন ও প্রশাসনিক খাতে প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্যও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। ওই খাতে প্রায় ৭১ হাজার ৬০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।
পরিবহন খাতেও কিছু অর্থ ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচন চলাকালীন বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিবহন খাতে প্রায় ৮৮ হাজার ৯৬ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের বিধান অনুযায়ী, একজন প্রার্থী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয় করতে পারেন।
সেই হিসাবে এই আসনে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮০ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ব্যয় বিবরণী অনুযায়ী ডা. শফিকুর রহমানের মোট ব্যয় সেই নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে প্রার্থীদের জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশন যাচাই করে দেখে থাকে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচনী ব্যয়ের সঠিক তথ্য নিশ্চিত হলে ভোটারদের কাছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাও আরও বৃদ্ধি পায়।