
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রথমে রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ নিয়ে সরকার গঠন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে বহু অধ্যাদেশে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক ও আর্থিক সুবিধা আদায়ের সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে সেই একই মহল এখন রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে সমালোচনা ও বিরূপ অবস্থান নিচ্ছে। কেন হঠাৎ এই পরিবর্তন—এ প্রশ্নও তোলেন সায়ের। তার দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াকে ঘিরে কিছু মহলের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পোস্টে তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে কিছু রাজনৈতিক পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সেই কারণেই রাষ্ট্রপতির প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই মন্তব্যগুলো সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও মতামত বলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত বা রাজনৈতিক সমালোচনা প্রকাশ নতুন কিছু নয়। তবে এসব বক্তব্য প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়।
এদিকে সায়েরের ওই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন, আবার অনেকে এটিকে অতিরঞ্জিত বা একপাক্ষিক মন্তব্য বলে অভিহিত করছেন বলে জানা গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সূত্র থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য দ্রুতই জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে এ ধরনের মন্তব্য বা অভিযোগ নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।