রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, ভোটের কালি নখ থেকে মুছে যাওয়ার আগেই বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং আসন্ন পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর জেলায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করার কথাও জানান তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে পারলে রাষ্ট্রের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। তিনি মন্তব্য করেন, নাগরিকরা দুর্বল অবস্থায় থাকলে কোনো রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হতে পারে না। তাই ধাপে ধাপে মানুষের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার মতে, কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নই একটি সমাজকে পূর্ণাঙ্গভাবে সমৃদ্ধ করতে পারে না; বরং ধৈর্য, সততা, সহনশীলতা, উদারতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধের মতো মানবিক গুণাবলিও সমানভাবে প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনে দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় জীবনের কল্যাণের জন্য প্রার্থনার কথা উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে অন্যান্য ধর্মের শিক্ষাতেও মানুষের কল্যাণ ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই ধর্মীয় নেতাদের সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা বলেন, ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া প্রশংসনীয়। তবে ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ক্যাথলিক ধারার কিছু যাজক সরকারি ভাতা গ্রহণে আপত্তি জানিয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
সরকারের এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিভিন্ন মহল থেকে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।