
গাজীপুরে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) ও অন্যান্য দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর নগরের নাওজোড় এলাকায় উড়ালসড়কের নিচে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নাওজোড় এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে প্রত্যাশিত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পাননি বলে দাবি করেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে অসন্তোষ দেখা দিলে শ্রমিকেরা প্রথমে কারখানার ভেতরে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা কারখানার কাজ বন্ধ রেখে বাইরে এসে বিক্ষোভে অংশ নেন।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় উড়ালসড়কের নিচে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করেন বলে জানা গেছে। এতে ওই মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন কিছু সময়ের জন্য আটকে পড়ে এবং দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং যান চলাচল আবার শুরু হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, তাঁদের বিভিন্ন দাবির মধ্যে রয়েছে বকেয়া বেতন পরিশোধ, নির্ধারিত সময়ের পর কাজ করলে যথাযথ ওভারটাইম প্রদান, বার্ষিক বোনাসের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং কাজের রেট সমন্বয় করা। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধ ও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের সঙ্গে ভালো আচরণ নিশ্চিত করার দাবিও তাঁরা জানিয়েছেন।
তাঁদের আরও অভিযোগ, অনেক সময় চাকরি থেকে বরখাস্তের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। এসব বিষয় সমাধানের জন্য মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।