ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঢাকা–১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং সংসদ সচিবালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।
সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা (পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা) আইন, ২০২১ অনুসারে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংসদে সরকারের বিরোধিতাকারী দল বা জোটের মধ্যে যে সংসদীয় দলের সদস্য সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, সেই দল বা জোটের নেতাকেই বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওই বিধানের আলোকে স্পিকার ঢাকা–১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। একই গেজেটে কুমিল্লা–১১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারের বিভিন্ন নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সংসদের ভেতরে সমালোচনা, আলোচনা এবং বিকল্প মতামত তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় নেতার সক্রিয় উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে বলে জানা গেছে। কিছু রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিরোধী রাজনীতির কার্যকারিতা নির্ভর করে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের কার্যক্রমের ওপর। তাই নতুন বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব সংসদে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্বীকৃতি পাওয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য। তারা মনে করেন, বিরোধী দলের সংসদীয় কার্যক্রম সমন্বয় করা এবং বিভিন্ন ইস্যুতে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে উপনেতার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সংসদ সচিবালয়ের গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নতুন করে বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার স্বীকৃতি সংসদের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সংসদের ভেতরে সরকারের নীতি ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।