সাভারের আশুলিয়া এলাকায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. ইমরান ওরফে বিপি ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ইমরান আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার আবদুল কাইয়ুমের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করতেন। স্থানীয়ভাবে তিনি টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিডিও তৈরির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ইমরান তাকে দিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করাতেন। বিভিন্ন সময় তিনি ভিডিও তৈরিতে অংশ নিলেও পরে ব্যক্তিগত কারণে ওই কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ মার্চ দুপুরে এ বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ইমরান তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার পর আরও দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটর—জুনায়েত ও সোমাইয়া—ইমরানকে সহযোগিতা করেন এবং ভুক্তভোগীকে মারধর করেন। পরে ওই নারী আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মামলার অন্য দুই আসামির বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তাদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইসহ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইমরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করতেন এবং আশপাশের কিছু তরুণ-তরুণীকে নিয়ে ভিডিও বানাতেন। তবে এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী বলা যাবে না।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।