
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছেড়ে বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোথাও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, কোথাও কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কম ভাড়া নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ তার কাছে আসেনি। তারপরও যাত্রীদের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে আগামী দুই থেকে আড়াই দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারেন। এত বড় জনস্রোত সামাল দেওয়া অবশ্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং টার্মিনাল থেকে শৃঙ্খলার সঙ্গে বাস ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই এবং জ্বালানির দাম বাড়ানোরও কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিষয়েও সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান। মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে অযোগ্য বা পুরোনো যানবাহন রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এমন কোনো লক্কড়-ঝক্কড় বাস মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের যানবাহন চলাচলের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংস্থাকে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।