সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থীর নাম শারমীন জাহান খাদিজা (২৫)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামে। তিনি শাহজাহান মোল্লার মেয়ে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ফাহিম আল হাসান (২২)। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. হানিফ সরকারের ছেলে। জানা গেছে, ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার গণমাধ্যমকে জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলের দিকে সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকার একটি চারতলা ভবনের নিচতলা থেকে ওই শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা প্রথমে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে সাভারের অ্যানা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বামীকে আটক করে বলে জানা গেছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও পরিচিতদের মধ্যেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
পুলিশ বলছে, অভিযোগ ওঠা বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে।