
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় ঈদকে ঘিরে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে উপজেলার মির্জারকোট মডেল মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আইনি কার্যক্রম শুরু করে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের মনসাপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী এবং তাদের পুত্র রয়েছেন। দুর্ঘটনায় তাদের একমাত্র কন্যা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শরিফুল ইসলাম পাটগ্রামে একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করতেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে যাত্রাপথেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মির্জারকোট এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসময় ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
পাটগ্রাম থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন এবং পলাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে বলে তারা দাবি করেন।
ঈদের আগে এমন দুর্ঘটনা ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।