পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথে চরম দুর্ভোগ ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভেরিফায়েড পোস্টে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমন অভিযোগ তুলে বর্তমান পরিস্থিতিকে “ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ঈদ এলেই নাড়ির টানে শহর ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটে যান লাখো মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বছরের এই সময়টির জন্য তারা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেন। কিন্তু এবার সেই আনন্দযাত্রা পরিণত হয়েছে চরম দুর্ভোগে—এমন অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে আরও বলা হয়, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রাথমিক বক্তব্যই বর্তমান অব্যবস্থাপনার ভিত্তি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এছাড়া সাধারণ যাত্রীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাস ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় কমানো হয়েছে—এমন দাবি করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টিকে তিনি “চরম মিথ্যাচার” হিসেবে উল্লেখ করেন বলে পোস্টে বলা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের এই দুর্ভোগ ও হতাশা নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই পরিস্থিতি কি দেশের জন্য নতুন কোনো নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করছে কিনা।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি দেশে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে তা জনগণ ও বিশেষ করে তরুণ সমাজ মেনে নেবে না। তার দাবি, বর্তমানে সচেতন জনগোষ্ঠী অনেক বেশি সজাগ এবং তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
পোস্টের শেষাংশে তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সময় থাকতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এর দায় সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে। অন্যথায় এই অব্যবস্থাপনা বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবহন ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে কার্যকর পরিকল্পনা ও তদারকি নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।