
সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান—এমন অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। রোববার (২২ মার্চ) সকালে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
সভায় ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান অনেক আগেই পরিবর্তিত হয়েছে এবং তা তৎকালীন রাষ্ট্রনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেই হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার এ বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধানের কথা বারবার উল্লেখ করা হলেও অতীতে এই সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন সময় অনেকের ওপর জুলুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও অতীতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন বলে জানা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে বাকশাল ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল কি না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংবিধানের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, সংবিধান ইতোমধ্যেই পরিবর্তিত হওয়ায় এটিকে সম্পূর্ণ অপরিবর্তনীয় বলা ঠিক নয়—এমন মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজনীতিবিদদের ভূমিকা নিয়েও তিনি সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন বলে সভায় উপস্থিতদের ভাষ্য। তিনি বলেন, একসময় রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সেই আস্থা কমে গেছে। কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকার কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ফিরে পেতে হলে কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য রাখতে হবে। অন্যথায় একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গঠন করা সম্ভব নয়—এমন মত প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার দল দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছে এবং এ বিষয়ে জনগণের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংস্কার ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের একটি বড় অংশ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে—এমন দাবি তুলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সিলেটের বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ছাড়াও জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।