
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ঈদের পরদিন এক মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের আঘাতে বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের নিলুরখামার কাটটারী গ্রামে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তি আব্দুল খালেক, যিনি ওই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। অভিযুক্ত হিসেবে তার ছেলে আসাদুজ্জামান মানিক (২৯)-কে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে পাশ্ববর্তী ভুরুঙ্গামারী এলাকায় বিয়ে করেন মানিক। এরপর থেকেই তার দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল বলে জানা গেছে। এই পারিবারিক অশান্তি ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছিল বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাবা ও ছেলের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা উত্তপ্ত বিতণ্ডায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মানিক ঘরে থাকা একটি শাবল দিয়ে তার বাবা আব্দুল খালেকের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অভিযুক্ত কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হতে পারেন। তবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এদিকে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পরিবারে সহনশীলতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন সচেতন মহল।