বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম—এমন তথ্য জানা গেছে দলীয় সূত্রে। সোমবার বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, তিনি বর্তমানে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং একই সঙ্গে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় দলীয় সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় কাজে আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বলা হয়।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদে দায়িত্ব পালন করলেও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারি দায়িত্ব পালনে সময় ও মনোযোগের চাপ বেড়ে যায়। এ কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রমে পূর্ণ সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল—এমন অভিযোগ উঠেছে বলেও জানা গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম তাজুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর একসঙ্গে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নিয়ে আগে থেকেই নানা আলোচনা ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগকে স্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে জানা যায়। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসতে পারে, আবার কেউ কেউ অভিজ্ঞ নেতৃত্ব হারানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দলীয় পদ ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় মীর শাহে আলমের এই পদত্যাগ নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।