দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক প্রশাসনিক নিয়োগের খবর সামনে এসেছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমানের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ ইব্রাহীমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জারি হওয়া ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে মুহাম্মদ ইব্রাহীমকে একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থ বিবেচনায় এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম মোরশেদ এ নির্দেশনা জারি করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে বিরোধী দলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রয়োজন হয়। সে দৃষ্টিকোণ থেকে একজন উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ নিয়োগ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসেনি।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসে বলে বিভিন্ন মহল দাবি করেছে। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বলে জানানো হয়। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জোট বিরোধী দল হিসেবে সংসদে অবস্থান করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নতুন এই নিয়োগ বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা সময়ই বলে দেবে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
এদিকে প্রশাসনিক মহলে এ নিয়োগকে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হলেও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিরোধী রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের নিয়োগ ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।