দেশে সাম্প্রতিক একাধিক সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনাকে ঘিরে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিজানুর রহমান আজহারি। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, দেশে পণ্যের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের মূল্য যেন ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টের মন্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ও শোকের আবহ তৈরি করেছে।
আজহারি উল্লেখ করেন, ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগের মধ্যে লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনা এবং কুমিল্লায় ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দৃশ্য এখনো মানুষের মনে তাজা। এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন দুর্ঘটনা মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় অনেক পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে, আবার অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন—যা পরিস্থিতিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
আজহারির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দুর্ঘটনা প্রমাণ করে দেশে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই”—এমন মন্তব্য করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বলে জানা যায়।
এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় নিরাপদ ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা দূর করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
শেষে তিনি নিহতদের জন্য দোয়া করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রসঙ্গত, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বাসটিতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।