রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা যায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু এবং ৮ জন পুরুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে উদ্ধার কার্যক্রম সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।
ঘটনায় নিহতদের পরিচয় ধীরে ধীরে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মধ্যে উজ্জ্বল শেখ (২৬), জাহাঙ্গীর (৫৫), আশরাফুল শেখ (২৪), রেহেনা আক্তার (৬১), মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), মর্জিনা আক্তার (৩২), সাফিয়া আক্তার (১২), ইস্রাফিল (৩), ফাইজ শাহানূর (১১), তাজবিদ (৭), বাসচালক আরমান খান (৩১), নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), লিমা আক্তার (২৬), জোস্ন্যা (৩৫), মুক্তা খানম (৩৮), নাছিমা (৪০), আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), সোহা আক্তার (১১), আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), আরমান (৭ মাস), আব্দুর রহমান (৬), সাবিত হাসান (৮) ও আহনাফ তাহমিদ খান (২৫) রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও একটি মরদেহ উদ্ধার হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসেছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার কাজে অংশ নেয় বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালিয়ে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ২৪টি মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যরা এলে হস্তান্তর করা হবে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেরিঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।