সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের দাবিতে সংসদে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় বিরোধী দল আবারও আন্দোলনের পথে যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংসদে জনগণের প্রত্যাশা ও চূড়ান্ত মতামতের যথাযথ প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে তারা জনগণের কাছেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। জানা গেছে, এর আগে বিকেলে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও তাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটসঙ্গী এনসিপির সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠনের উদ্যোগ বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির স্বার্থে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি জাতীয় দাবি। তবে সংসদে সেই দাবির যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী গণভোটগুলো এভাবে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উঠছে।
সংসদের ভেতরে দাবি আদায়ে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখন আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। তিনি জানান, জনগণের দাবি আদায়ে তারা আবার মাঠে নামতে পারেন এবং এ বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে শিগগিরই বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী সদস্যদের ওয়াকআউট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালেও তারা তা উপেক্ষা করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করেও বিরোধী দল একই ধরনের ওয়াকআউট করেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য আরও বাড়তে পারে। এর ফলে রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।