কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধের বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা-কে ঘুষ প্রস্তাবদাতাদের পরিচয় প্রকাশের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) মো. হৃদয় হাসান নামের এক ব্যক্তি তার আইনজীবীর মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান বলে অভিযোগ উঠেছে। নোটিশে বলা হয়েছে, গত কয়েকটি জনসভায় আমির হামজা দাবি করেছিলেন— কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য তাকে মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ঘুষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেও জানান এবং এমনকি পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও নিজের অবস্থান থেকে সরবেন না বলে বক্তব্য দেন— এমনটাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, এত বড় অঙ্কের ঘুষ প্রস্তাবের বিষয়টি প্রকাশ্যে বলার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ না করা জনস্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। নোটিশ প্রদানকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের স্বার্থে ঘুষদাতা ও গ্রহীতা— উভয়ের পরিচয় সামনে আনা প্রয়োজন।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কাজ করছে— এমন প্রেক্ষাপটে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ গোপন রাখা উচিত নয় বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ না করলে তা পরোক্ষভাবে অপরাধীদের সহায়তা করার শামিল হতে পারে।
নোটিশে আমির হামজাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবদাতাদের পরিচয় প্রকাশ অথবা তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে তিনি কুষ্টিয়াবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তবে এ বিষয়ে মুফতি আমির হামজার পক্ষে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, যদি অভিযোগ সত্য হয় তবে তা দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আবার অন্যদের মতে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে প্রমাণসহ তথ্য প্রকাশ করা জরুরি, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয়।