দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তীব্র বাকযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির রাজনীতি মূলত সুবিধাবাদ ও দ্বিচারিতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জানা গেছে, ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা মহানগর শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদ এবং দ্রুত গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মামুনুল হক বলেন বলে জানা গেছে, বিএনপি প্রকাশ্যে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও বাস্তবে তাদের অবস্থান ভিন্ন। তিনি অভিযোগ করেন, দলটির রাজনীতিতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং জনগণের সামনে এক ধরনের অবস্থান তুলে ধরা হলেও অন্তরালে ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, সরকারের এমন কিছু অধ্যাদেশ রয়েছে যা ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক—এসব বিষয়ে বিএনপির আগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু যেসব প্রস্তাব জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, সেগুলো বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে ইঙ্গিত করে মামুনুল হক বলেন বলে জানা গেছে, দেশে মুনাফেকি রাজনীতি জনগণ আর মেনে নেবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করা হয়, তাহলে রাজপথে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, দেশের অধিকাংশ জনগণের মতামতের বিপরীতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। অতীতের কিছু রাজনৈতিক ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন বলে জানা গেছে, এর ফলাফল ভালো হয় না এবং জনগণই শেষ পর্যন্ত এর জবাব দেয়।
সমাবেশে আরও অভিযোগ করা হয়, অতীতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে, যার মধ্যে গুম, খুন ও সহিংসতার ঘটনাও রয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে, সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্যসচিব আকতার হোসেন এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় বলে জানা গেছে। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে কাকরাইল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।