ভোলায় আটক হওয়া জামায়াতে ইসলামীর এক নারী কর্মী বিবি সাওদা (৩৭), যিনি সাওদা সুমি নামেও পরিচিত, শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোলা সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
আইনজীবীদের বরাতে জানা গেছে, গত রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে ভোলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ একাডেমি সড়কের একটি বাসা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইলিয়াস সুমন জানান, মঙ্গলবার সকালে আদালতে দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার শুনানি শেষে বিচারক সাওদা সুমির জামিন মঞ্জুর করেন বলে তিনি দাবি করেন। এর আগে সোমবার (৬ এপ্রিল) তার জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতার এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে কাউকে আটক করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা আরও অভিযোগ করেন, কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই একজন নারী কর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘ঊর্ধ্বতন নির্দেশের’ কথা বলা হচ্ছে।
জেলা জামায়াতের এক নেতা কাজী হারুন অর রশিদ বলেন, তারা পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও তাকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাকি জানিয়েছেন, ওপরের নির্দেশেই এই আটক করা হয়েছে—এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকারবিরোধী মত প্রকাশের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।