কক্সবাজারের উখিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজন বৃদ্ধ, দুই নারী এবং একটি শিশুকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকায় শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত এক নেতার বাড়ি ঘেরাও করে তার ছোট ভাইকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, থানায় নেওয়ার পথে ওই ব্যক্তি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। এরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা অভিযুক্তকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আটক হওয়া চারজনকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একজন বৃদ্ধ, দুই নারী এবং একটি শিশুকে একই ঘটনায় জড়িয়ে গ্রেফতার করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার ‘খেসারত’ হিসেবে পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছে, আইনের আওতায় থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিশুটিকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন। আইনজীবীদের একটি অংশ বলছেন, দেশের প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট বয়সের নিচে কোনো শিশুকে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা যায় না। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে শিশুকে মামলার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা বা আটক রাখা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটিকে সরাসরি গ্রেফতার করা হয়নি। তার মা গ্রেফতার হওয়ায় এবং দেখভালের অন্য কেউ না থাকায় নিরাপত্তার কারণে তাকে মায়ের সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শিশুটির বয়স কম হওয়ায় তাকে কারাগারে রাখার নিয়ম নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি মানবিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।