রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট ও এর প্রভাব নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে তেলের সরবরাহে ঘাটতির কারণে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার রাজধানী ঢাকা-তে আয়োজিত একটি শ্রমিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে আগত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন বলে জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে একজন পরিবহন শ্রমিককে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অভিযোগ করা হয়, এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক ক্ষেত্রে তারা সীমিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন, যা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে সারাদিনের কাজের বড় অংশ সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং আয় কমে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া পেট্রোল পাম্পগুলো আগের তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারও আর্থিক চাপে পড়ছে বলে মন্তব্য করা হয়। শ্রমিকদের জীবনে এই সংকটের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে বলেও জানা গেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও অভিযোগ করেন, সংসদে এসব বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হলেও তা যথাযথভাবে আলোচনার সুযোগ পাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, জনগণের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ তোলা হয়, পরিকল্পিতভাবে তাদের জোটকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে জনগণ এসব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে কিছু সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা তারা বজায় রেখেছেন। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে পাওয়া সরকারি সুবিধাও লিখিতভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন বলে জানা গেছে, ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যাবে না। কারণ এতে মালিক, শ্রমিক এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ব্যাংকিং খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, নতুন ব্যাংক আইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আমানত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।
মিডিয়ার ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অনেক সময় গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয় না এবং বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমঘন এলাকাগুলোতে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দাবি তোলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সংলাপ ও সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে জানা গেছে।