ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আবারও পিছিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এটি নিয়ে মোট ১২ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পরিবর্তন করা হলো বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার একটি আদালত এ সংক্রান্ত শুনানিতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আদালত আগামী ৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তদন্ত সংস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আরেকটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে, তবে সেসময়ও তা দাখিল করা সম্ভব হয়নি।
মামলার অগ্রগতিতে বিলম্ব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে তদন্তের গতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার পটভূমি পর্যালোচনায় জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে সেই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষ পুনঃতদন্তের আবেদন জানায় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য অন্য সংস্থার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় হাদি সশস্ত্র হামলার শিকার হন। চলন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে প্রথমে রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ঘটনার পর মামলার ধারা পরিবর্তন করে হত্যা মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে বলে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন এখনও পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বারবার বিলম্ব হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় ন্যায়বিচার পেতে বিলম্ব হতে পারে। তবে তদন্ত সম্পন্ন হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।