জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হওয়া এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত জানায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার তার মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। একই সঙ্গে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ প্রমাণাদি জমা না দেওয়ায় তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মনিরা শারমিনকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার পরই তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছাড়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রার্থী হওয়ায় তার মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
এদিকে, সম্ভাব্য জটিলতা মাথায় রেখে দলটির পক্ষ থেকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবেও আরেক নেত্রীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এনসিপির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের প্রেক্ষাপটে তার মনোনয়নপত্রও গ্রহণ করা হয়নি এবং সেটিও বাতিল করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতা নিয়ে আইনগত শর্তাবলি ও প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ম মেনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে যে, নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আপিল প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের প্রার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।