রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজে ঢুকে এক শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক দলের নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের অভ্যন্তরে পরীক্ষাকালীন সময়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় কলেজে ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় এক রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা আগের প্রশাসনের সময়ের আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে জানতে চান বলে জানা গেছে। এ নিয়ে সেখানে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে এক নারী প্রভাষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তাকে মারধর করা হয়। এরপর কলেজের অধ্যক্ষসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অফিস কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ, এক নারী প্রভাষকসহ অন্তত কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে অভিযুক্ত পক্ষের একজন নেতা দাবি করেছেন, তারা কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চাপ ও অর্থ দাবি করা হচ্ছিল, যা অস্বীকার করার পরই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করছিল এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু ব্যক্তি জোর করে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে এখন এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।