রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাসকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূর বাসায় প্রবেশ করে অনৈতিক আচরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত হিসেবে মো. এনামুল হকের নাম জানা গেছে, যিনি ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, নির্বাচনী সময় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সময় এনামুল হকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তিনি ওই নারীকে একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেন। সেই সূত্র ধরে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়ে জানান, ঈদের পর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে এবং এজন্য ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ফোন নম্বর নেওয়ার অজুহাতে তিনি আবারও ওই বাসায় যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন বলে দাবি করা হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি নিজেকে রক্ষা করতে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে পাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
ভুক্তভোগী বলেন, তার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করেন। অপরদিকে, ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং থানায় অভিযোগ না করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত নাকি দাবি করেছেন যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. এনামুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করতে ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেনকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি।