ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আসন্ন মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর একটি কর্মী সম্মেলনে ডাকসুর বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েম-কে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে আয়োজিত থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের সম্মেলনে এই বিষয়টি সামনে আসে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এখনও চূড়ান্ত অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, যদি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ডাকসুর বর্তমান মেয়াদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী না করার বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, যদি নির্বাচন ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয়, তবে তাকে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে—এমন আলোচনাও দলীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আরও একটি সূত্র দাবি করেছে, মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাদিক কায়েম ইতোমধ্যে তার জাতীয় পরিচয়পত্র খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেছেন এবং তিনি এখন ঢাকার ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। যদিও তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেননি, তবে নিয়মিতভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের একজন শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচন ঘিরে নতুন প্রার্থী ঘোষণা ও আলোচনার বিষয়টি রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা বলেই অনেকেই মনে করছেন।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে, আর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নতুন নতুন আলোচনা সামনে আসছে।