ঢাকায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অভিযোগ বা মামলার কারণে কোনো সাংবাদিক যেন বিনা কারণে দীর্ঘ সময় কারাগারে না থাকেন, সে বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, জামিন পাওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও সেই অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত।
রবিবার রাজধানীর তথ্য ভবনে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি নির্দেশনা দিয়েছেন— কোনো সাংবাদিক যেন বিনা অপরাধে কারাগারে না থাকেন। অতীতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সরকার বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে চায় না।
সভায় তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেসব সাংবাদিক বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন, তাদের জামিনের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিবেচিত হওয়া উচিত। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনি জটিলতায় পড়ছেন। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সরকার সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে।
তিনি বলেন, “সাংবাদিক হোক কিংবা মন্ত্রী— কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, অপরাধের অভিযোগের বিচার একটি বিষয়, আর পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আরেকটি বিষয়। দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় উপস্থিত কয়েকজন বক্তা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তারা দাবি করেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিষয়ে এমন বক্তব্য গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি করতে পারে। তবে বাস্তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা, গ্রেপ্তার ও আইনি জটিলতা কতটা কমবে, সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
এদিকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সংগঠনও স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পক্ষে মত দিয়েছে। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং পেশাগত নৈতিকতার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।