বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য-তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় থ্যালাসেমিয়াকে একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরিবারে বাবা-মা উভয়েই যদি থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করেন, তাহলে ভবিষ্যৎ সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ কারণে সময়মতো পরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এবারের বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি।” দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবামূলক সংগঠন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলেও জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর পোস্টে আরও বলা হয়, দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা ও পূর্বপরিকল্পিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনায় থাকা ‘ই-হেলথ কার্ড’ নিয়ে পোস্টে বলা হয়েছে, এটি চালু হলে নাগরিকরা নিজেদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখতে পারবেন। পাশাপাশি দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসক খুব দ্রুত রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য-তথ্য দেখতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালু হলে চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত হতে পারে।
এছাড়া স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক ও জনমুখী সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, থ্যালাসেমিয়ার মতো দুরারোগ্য রোগ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে থ্যালাসেমিয়া জিন-বাহকদের মধ্যে বিয়ের ঝুঁকি সম্পর্কেও সামাজিক সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সবশেষে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির সফলতা কামনা করা হয় এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।