টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাস বয়সী এক শিশুকে নিয়মিত টিকার পরিবর্তে ভুলবশত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের বাসিন্দা মৌ খাতুন বুধবার দুপুরে তার এক মাস পাঁচ দিন বয়সী কন্যাশিশু ফাহিতাকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরিবারের দাবি, টিকাকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা এক স্বাস্থ্যকর্মী শিশুটিকে নির্ধারিত হাম প্রতিরোধী টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন।
শিশুর স্বজনদের ভাষ্য, টিকা দেওয়ার কিছু সময় পর থেকেই শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে খারাপ আচরণের শিকার হন বলেও অভিযোগ করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা চরম উদ্বিগ্ন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিষয়টি হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর অন্য অভিভাবকদের মাঝেও আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই শিশুদের টিকা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, যিনি টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন তিনি আগে অবসরে গেছেন। এরপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়ে আসে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে কীভাবে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হলো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, ভুলবশত শিশুটিকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এটি অনিচ্ছাকৃত ঘটনা বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবসরে যাওয়ার পরও টিকাদান কার্যক্রম সচল রাখতে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিশুদের টিকাদানের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আরও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে স্বাস্থ্যখাতে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পর শিশুটির চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।