রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং ঘটনাটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারিতে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখিত তারেক রহমান রাজধানীর পল্লবীতে নিহত রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় যান। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবরণ এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও জানা যায়, মিরপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রথমে একজন নারীকে আটক করা হয় বলে জানা যায়, যিনি প্রধান আসামির স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বিষয়টি এখনো বিচারাধীন।
ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মানববন্ধনের খবরও পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী সাত দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এখনো পর্যন্ত পুরো ঘটনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, এবং তদন্তাধীন থাকায় বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।