ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় শিবিরকর্মী হত্যা মামলার এক এজাহারভুক্ত আসামির পারিবারিক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন রাখালগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টু। তার মেয়ের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংসদ সদস্য আবু তালিবকে আপ্যায়নের একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিদুল ইসলাম মন্টু শিবিরকর্মী হত্যা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি। এ কারণেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যও করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব গেট এলাকা থেকে শিবিরকর্মী শামীমকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে একই বছরের ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালী গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিহত শামীমের বাবা রুহুল আমিন কালীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মহিদুল ইসলাম মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব বলেন, তিনি সামাজিক সম্পর্কের কারণে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, রাখালগাছি ইউনিয়নে তার গ্রামের বাড়ি হওয়ায় এলাকার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মামলার ভুক্তভোগী পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায় সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সামাজিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখলেও অন্যরা বলছেন, একটি আলোচিত হত্যা মামলার আসামির অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।